রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা, বহু হতাহতের শঙ্কা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির জান্তা বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে সাগাইং অঞ্চলে জান্তাবিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাখাইনের বুথিডং উপজেলায় যুদ্ধবিমান থেকে শহরসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহরে সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সমর্থিত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্সের (পিএসএফ) সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পিএসএফের কয়েকটি ঘাঁটিতে পিডিএফের অভিযানের পর এই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক মানুষ মিয়ানমার ছাড়ছেন। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন।
আইওএমের তথ্যমতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটই দেশত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে দেশটিতে ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন, যার প্রভাব মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
