বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি বিএনপি কার্যালয়ে তালা ভেঙে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবি ভাঙচুর করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের কোনো আলামত পায়নি।
ভোররাতে কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ
মঙ্গলবার ভোরে পটিয়া উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি গভীর রাতে কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ছবি, আসবাবপত্র ও কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা অফিসের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ফ্রেম ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের ছবি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া অফিসের চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্ট্যান্ড ফ্যান, কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কাগজপত্রও কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দলীয় কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম বলেন, তিনি ভাঙচুরের ঘটনার খবর পেয়েছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
পুলিশের বক্তব্যে এসেছে ভিন্ন তথ্য
যদিও বিএনপি নেতাদের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, বিএনপি কার্যালয়ে তালা ভেঙে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তদন্তকালে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সহিংসতা বা সম্পদ নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে অভিযোগ ও পুলিশের পর্যবেক্ষণের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক কর্মীরা।
Source: Based on reporting from Amar Desh
