প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ এবার আয়োজন করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ ব্যবহারের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাতিল ঐতিহ্যবাহী আয়োজন

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

প্রতি বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন। তবে চলতি বছর সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এসেছে।

সরকারি ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টার অংশ

সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্তও এসেছে। কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও সতর্কতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, অতীতের বিভিন্ন অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এ খাতে বছরে গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতো। এর বাইরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকাও ব্যয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধুমাত্র আপ্যায়ন খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা। সে সময় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবার সরবরাহ করত।

বকেয়া বিল ও বর্তমান ব্যয়ের চিত্র

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতীতের কিছু ব্যয়ের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে এবং বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সেগুলো পরিশোধ করছে। একই সঙ্গে আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

প্রেসসচিবের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

বাজেট পাসের দিনে সংসদে ব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে এসে তিনি অধিবেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন।

এর মধ্যে বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ, আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং অন্যান্য সংসদীয় দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং জরুরি নথিতে অনুমোদন দেন বলে জানানো হয়েছে।

জনগণের কাছে কী বার্তা দিল এই সিদ্ধান্ত?

অর্থনৈতিক চাপ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে যখন দেশে নানা আলোচনা চলছে, তখন সরকারি আনুষ্ঠানিক আয়োজন সীমিত করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন করলে প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও একই ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে।

তবে সরকারি ব্যয় কমানোর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক খরচ এবং ক্রয়ব্যবস্থাপনাসহ বৃহত্তর ক্ষেত্রেও দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

Source: Based on reporting from Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

Next News Previous News