তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা বাদ মাগরিব ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ নেতা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগঠক তোফায়েল আহমেদ-এর প্রথম জানাজা আজ সোমবার (১ জুন) বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক বিরাজ করছে।
ধানমণ্ডিতে প্রথম জানাজার আয়োজন
পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ গোসলের জন্য ধানমণ্ডির ১২/এ এলাকার তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, জানাজার নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
ভোলায় দ্বিতীয় জানাজা ও দাফনের পরিকল্পনা
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় প্রথম জানাজার পর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। পরে মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ নিজ জেলা ভোলা নেওয়া হবে।
ভোলায় বাদ জোহর জিলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার পারিবারিক কবরস্থানে, মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে পারিবারিক সূত্র।
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন এবং গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ সময়ে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতিতে তার অবদান, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জাতীয় পর্যায়ের ভূমিকা তাকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
জাতীয় পর্যায়ে শোকের আবহ
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কারণে বিভিন্ন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ ও অনুসারীদের মধ্যে তিনি একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারায় তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে।
Source: Based on reporting from Kaler Kantho and statements from Dhaka Metropolitan Police (DMP) and family sources.
