১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক
বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৮টি দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদে দেওয়া তথ্য: বিস্তৃত হচ্ছে শ্রমবাজার
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখন ধীরে ধীরে নতুন নতুন দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সৌদি আরবের পর মালয়েশিয়া অন্যতম বড় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফরও হয়েছে। আলোচনাগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বন্ধ বাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা
নুরুল হক আরও জানান, বর্তমানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন উল্লেখযোগ্য।
এই দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে নিয়মিত কাজ করছে বলে তিনি জানান।
দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ
বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
এছাড়া জাপানের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জাপানি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।
প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাদের অবস্থান বৈধ রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার কূটনৈতিকভাবে এসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা করছে।
এতে করে প্রবাসী শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের কর্মসংস্থান বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান: বিদেশে কর্মসংস্থানের চিত্র
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মীও রয়েছেন, যা নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উপসংহার
১৮টি দেশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বাংলাদেশ। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যতে নতুন বাজার কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Source: Based on reporting from BSS (Bangladesh Sangbad Sangstha)
