পিআর দাবি সরকারকে মেনে নিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন

সংবিধান সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রশ্নে আবারও সামনে এসেছে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারের কাছে উচ্চকক্ষে পিআর ব্যবস্থা চালুর দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে দলের অবস্থান

দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সুপারিশ করেছে। এই ব্যবস্থায় একটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে যত ভোট পাবে, তার অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে।

তার মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে কোনো একক দলের আধিপত্য কমে যাবে এবং বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, যা সংসদের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও জনগণের সংস্কার দাবির যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণ-আন্দোলনের সময় যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

একই সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, বড় রাজনৈতিক দলগুলো উচ্চকক্ষ ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দৃঢ় অবস্থান না নিয়ে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের মতবিনিময় সভা

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। সভায় স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি, যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষণ: কেন গুরুত্বপূর্ণ পিআর ব্যবস্থা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিআর পদ্ধতি চালু হলে ছোট ও মাঝারি রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় দলগুলো বেশি আসন পায়, ফলে ভোটের শতকরা হার ও আসনসংখ্যার মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়।

তবে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে সাংবিধানিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন—যা একটি জটিল প্রক্রিয়া বলে মনে করা হয়।

উপসংহার

উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার এই প্রস্তাব বিবেচনায় নেবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে এই ধরনের আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Amar Desh and local political sources

Next News Previous News