হাসনাত আব্দুল্লাহর মোমবাতি বিতরণ করে প্রতিবাদ
দেবিদ্বারে বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে মোমবাতি বিতরণ, ক্ষোভ জানালেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ
দেবিদ্বার বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে জনদুর্ভোগের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কুমিল্লায়। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে মোমবাতি বিতরণ করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্ট ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
প্রতীকী প্রতিবাদে মোমবাতি বিতরণ
স্থানীয়দের মাঝে মোমবাতি বিতরণ করে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ সংকট এখন মানুষের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের মিল নেই।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, তবে বাস্তবে অনেক এলাকায় দিনের বড় সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এই বাস্তবতার প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, “যখন সারাদিন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন মানুষকে অন্ধকারে থাকতে হয়। তাই প্রতীকীভাবে মোমবাতি দিয়ে আমরা সেই অবস্থার কথাই তুলে ধরছি।”
স্থানীয়দের ভোগান্তি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের কষ্ট বেড়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে ঘুমানো যায় না, দিনে কাজ করা যায় না—বিদ্যুৎ না থাকলে সবকিছুই থমকে যায়।” অনেকেই জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জ্বালানি সংকট ও জাতীয় প্রেক্ষাপট
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হচ্ছে। যদিও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে, তবুও অনেক এলাকায় এর প্রভাব রয়ে গেছে।
বাংলাদেশে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়, যা সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।
দ্রুত সমাধানের দাবি
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করেন। তারা নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং সারাদেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন। সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবায়ন জরুরি।
সব মিলিয়ে, দেবিদ্বারে মোমবাতি বিতরণের এই কর্মসূচি বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি আরও জোরালো করেছে।
Source: Based on reporting from Amar Desh
