সংসদ এলাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতায় রাখতে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব
রাজধানীতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ঘোষিত লোডশেডিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সংসদে আলোচনার সময় তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা বিদ্যুৎ বণ্টনে সমতা নিশ্চিতের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।
সংসদে আলোচনার প্রেক্ষাপট
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব
এ বক্তব্যের পর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীতে লোডশেডিং কার্যকর হলে তা যেন সংসদ এলাকা থেকেও শুরু হয়। তার মতে, বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে এর বাইরে রাখা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করেন, সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষ নয়, বরং সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশের অন্যান্য স্থাপনাকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনার কথা বলেছেন।
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া
প্রস্তাবের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে যদি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়, তাহলে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হতে পারে। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ব্যাখ্যা দেন, তার প্রস্তাব মূলত সংসদ এলাকার অন্যান্য স্থাপনা নিয়ে, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রেখে নীতিগত সমতা বজায় রাখা যায়।
জ্বালানি সংকট ও বাস্তবতা
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ বহুদিনের, যেখানে শহরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্তকে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রয়োজন।
উপসংহার
সংসদ এলাকায় লোডশেডিং অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটি মূলত সমতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। সরকার এই প্রস্তাব বিবেচনা করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নীতিগত আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh and parliamentary proceedings
