ফ্যাসিস্ট আমলের ডিলারশিপ বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

সার সংকট বাংলাদেশ মোকাবিলায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় তিনি জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, আগের আমলে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার বর্তমানে সার উত্তোলন না করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, যার প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়ছে।

সংসদে ওঠে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ

চিফ হুইপ বলেন, মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিলারদের সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন না। এতে কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব অনিয়ম দূর করতে পুরনো ডিলারদের বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তিনি জানান, সংসদের সম্মতি থাকলে সরকার দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে।

তার এই বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান, যা বিষয়টির প্রতি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ইঙ্গিত দেয়।

কৃষি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট দেশের কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বোরো ও আমন মৌসুমে সারের সঠিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হলে খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হলে কৃষকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বাজারে অস্থিরতা কমবে।

নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র ডিলার পরিবর্তন নয়, বরং সার সরবরাহ ব্যবস্থার পুরো কাঠামো আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। ডিজিটাল মনিটরিং, সরবরাহ চেইনের স্বচ্ছতা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে কমানো সম্ভব।

উপসংহার

সব মিলিয়ে সার ডিলার পরিবর্তনের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়ন কৌশলই নির্ধারণ করবে কৃষকেরা কতটা দ্রুত এর সুফল পাবেন।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News