তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার ‘দেশ’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সংসদে রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক বাস্তবতা, সংস্কৃতি এবং গ্যাস সংকট নিয়ে সরব হয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, একদিকে এই অঞ্চল দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, অন্যদিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রবণতাও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংস্কৃতি ও সহিংসতার দ্বৈত চিত্র

বৃহস্পতিবার সংসদে বেসরকারি সদস্যদের প্রস্তাব উত্থাপনকালে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে রূপক অর্থে ‘দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চল মেঘনা ও তিতাস নদীবেষ্টিত, সংগীত, কীর্তন, বাউল গান এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির জন্য সুপরিচিত। একই সঙ্গে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও অলি আহাদের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জন্মস্থান হিসেবেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুরুত্ব রয়েছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই ইতিবাচক পরিচয়ের পাশাপাশি ছোটখাটো বিষয়েও সহিংসতার ঘটনা ঘটার প্রবণতা রয়েছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

গ্যাস সংকট নিয়ে অভিযোগ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনি এলাকা সরাইলসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তার দাবি, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না, অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বলে না। ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন রান্নাবান্নায় ভোগান্তিতে পড়ছেন।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে করে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

অবৈধ সংযোগ ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা

গ্যাস সংকটের পেছনে অবৈধ সংযোগকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থার পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে, যার ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ গ্রাহকেরা সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেন না।

২০১৬ সালে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিকল্প জ্বালানি ও ব্যয়ের চাপ

গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ বিকল্প হিসেবে এলপিজি ও বিদ্যুৎচালিত চুলার দিকে ঝুঁকছে। তবে এখানেও রয়েছে সমস্যা। সংসদে তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলাও কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠছে না।

এর ফলে গ্রামীণ ও শহরতলির মানুষ দ্বৈত সংকটে পড়ছে—একদিকে গ্যাস নেই, অন্যদিকে বিকল্প ব্যবস্থাও ব্যয়বহুল বা অনিশ্চিত।

নীতিগত দাবি ও সুপারিশ

রুমিন ফারহানা সংসদে দাবি জানান, যে অঞ্চলে গ্যাস উৎপাদিত হয়, সেই এলাকার মানুষের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত। তার মতে, স্থানীয় জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে অন্যত্র সরবরাহ দেওয়া হলে তা ন্যায়সংগত নয়।

উপসংহার

সংসদে উত্থাপিত এই বক্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার পাশাপাশি সেবা সংকটের এই দ্বৈত বাস্তবতা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

Source: Based on reporting from local media sources

Next News Previous News