জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে আরিফ ও ইব্রাহিম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আব্দুল আলিম আরিফ এবং সেক্রেটারি হিসেবে ইব্রাহিম খলিলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির সদস্যদের উপস্থিতিতে রোববার বিকেলে এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে এই নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন নেতৃত্বের প্রোফাইল
নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, নতুন সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
কমিটি ঘোষণার প্রেক্ষাপট
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কমিটি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ এবং মিডিয়া সম্পাদক মুতাসীম বিল্লাহ শাহেদী উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক জবি শাখার নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্ররাজনীতি বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তন ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কার্যক্রমের ধরন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণই মূল ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশি প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে ছাত্রসংগঠনগুলো প্রায়ই জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে। ফলে ক্যাম্পাসে নতুন নেতৃত্বের আগমন বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপসংহার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে পারে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
Source: Based on reporting from Amar Desh
