ফেলে যাওয়া ৩ লাখ টাকা মালিককে ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোচালক
সততার গল্প বাংলাদেশ—ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক অটোচালকের মানবিকতা ও নৈতিকতার বিরল উদাহরণ এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফেলে যাওয়া তিন লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিব নামের এক তরুণ অটোচালক মানুষের আস্থা ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসা কেন্দ্রের সামনে ঘটে এই ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার দাখিল পরীক্ষার্থী ছেলেকে কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে একটি অটোরিকশায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। অসাবধানতাবশত তিনি তার সঙ্গে থাকা টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রভর্তি ব্যাগটি ওই অটোতেই রেখে চলে যান।
হারানো ব্যাগ নিয়ে উদ্বেগ
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিষয়টি মনে পড়লে রফিকুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। কিন্তু বহু খোঁজাখুঁজির পরও ব্যাগটির কোনো সন্ধান পাননি। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে ব্যাগটি ফেরতদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন এবং সেটি ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন।
অটোচালকের সততা
অন্যদিকে, সাকিব নামের এক অটোচালক তার গাড়িতে একটি ব্যাগ খুঁজে পান। ব্যাগের ভেতরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল দেখে তিনি মালিককে খোঁজার চেষ্টা করেন। ব্যাগে থাকা কাগজপত্রের সূত্র ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে তিনি সেটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছে জমা দেন।
পরবর্তীতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট দেখে তিনি মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বোরহানগঞ্জ বাজারে দেখা করার ব্যবস্থা করেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি ব্যাগসহ তিন লাখ টাকা, মূল দলিল এবং অন্যান্য কাগজপত্র মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুরস্কার প্রত্যাখ্যান, নৈতিকতার বার্তা
ব্যাগ ফিরে পেয়ে রফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাকিবকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের প্রতি লোভ না করে সঠিক কাজ করাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সাকিব জানান, এই টাকা নিজের কাছে রেখে দিলে হয়তো সাময়িক লাভ হতো, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতির কারণ হতে পারত। তাই তিনি সৎ পথই বেছে নিয়েছেন।
সংগ্রামী জীবনের গল্প
জানা গেছে, সাকিব ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গণিতে অকৃতকার্য হন এবং চলতি বছর আবার পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি ভাড়ায় অটো চালান এবং পরীক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার কাজ করেন।
তার বাবা আব্দুল মান্নান স্থানীয় বাজারে মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সীমিত আয়ের পরিবার হলেও সাকিবের এই সততা স্থানীয়দের কাছে অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাজুড়ে প্রশংসা
এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাকিবের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে এমন সততা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে এবং তরুণ প্রজন্মকে সৎ পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।
উপসংহার
সব মিলিয়ে ভোলার এই ঘটনা শুধু একটি হারানো জিনিস ফেরত দেওয়ার গল্প নয়, বরং সমাজে সততা ও নৈতিকতার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে। সাকিবের এই উদ্যোগ অনেকের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
