বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে আমরা ঋণের বিশাল বোঝা পেয়েছি : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বিগত সময়ের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশ বর্তমানে একটি বড় ঋণচাপের মুখোমুখি, যা কাটিয়ে উঠতে নতুন আয়ের উৎস তৈরি করা জরুরি।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “ইউরোপীয় শ্রমবাজারে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি” শীর্ষক এই আয়োজনটি প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক আয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি এখনো আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স খাতের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয় হয়। তবে বাড়তি আমদানি ব্যয়ের কারণে এই আয় দিয়ে পুরো অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স আয় বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। এজন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে ইউরোপীয় শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য ভাষাগত দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন খাতের সম্ভাবনা

তথ্যমন্ত্রী রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন খাতকে সম্ভাবনাময় একটি বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো স্থানগুলো বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটন খাত সঠিকভাবে উন্নয়ন করা গেলে তা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত হতে পারে।

দক্ষ জনশক্তি গঠনের প্রয়োজনীয়তা

সেমিনারে উপস্থিত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। ভাষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং কর্মস্থলের মানসিক প্রস্তুতি—এই তিনটি ক্ষেত্রে উন্নতি প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

তারা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে জনশক্তি রপ্তানি করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন খাত তৈরি ও বিদ্যমান খাতের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বহুমুখী আয়ের উৎস তৈরি করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হবে এবং বৈদেশিক নির্ভরতা কমবে।

উপসংহার

সেমিনারে আলোচিত বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নতুন খাতের উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News