মহিলাদল নেত্রীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক
বগুড়া প্রক্সি পরীক্ষা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী আটক হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
আটক শিক্ষার্থীর নাম ঈশিতা আক্তার তিশা (১৮)। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
যেভাবে ধরা পড়লো প্রক্সি দেওয়ার ঘটনা
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি (দ্বিতীয় বর্ষ) পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলছিল। ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে নির্ধারিত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য একজন অংশ নিচ্ছেন বলে সন্দেহ হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকের।
পরবর্তীতে প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার অমিল ধরা পড়লে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন এবং অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পরীক্ষার্থীর পরিচয় ও অভিযোগ
জানা গেছে, যার হয়ে পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছিল, তিনি স্থানীয় এক রাজনৈতিক সংগঠনের নেত্রী। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক শিক্ষার্থী তার আত্মীয় এবং সেই সূত্রে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আটক শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা আবারও পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও তদারকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্সি পরীক্ষা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর সমস্যা, যা শিক্ষার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই প্রক্রিয়া এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে প্রক্সি পরীক্ষার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে প্রতিবারই এটি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য তা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
উপসংহার
বগুড়ার এই ঘটনাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
