বঙ্গভবনে নয়, চুপ্পুর থাকা উচিত জেলে

ব্যাংক খাতের সংস্কার বিতর্কে তীব্র সমালোচনা, জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং আইনি কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজধানীতে এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্টজনেরা সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং খাতটিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কার্যকর সংস্কারের আহ্বান জানান। একই অনুষ্ঠানে সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের বিষয়ে তীব্র সমালোচনাও উঠে আসে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কঠোর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। তারা সতর্ক করেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে।

জবাবদিহি ও শাস্তির ওপর গুরুত্ব

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমত অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এমন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশে আইনের অভাব নেই, তবে বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, অনেক সময় নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে অপরাধীদের রক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব রয়েছে।

ব্যাংকিং ঝুঁকি ও ‘ব্যাংক রান’ আশঙ্কা

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, কোনো ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করে দিলে তা পুরো খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি ব্যাংকের সংকট অন্য ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা ‘ব্যাংক রান’ হিসেবে পরিচিত।

তিনি সতর্ক করেন, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হতে পারে।

সংস্কার প্রস্তাব ও বাস্তবতা

বক্তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতকে টেকসই করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে তারা বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একীভূতকরণ বা বাজার থেকে বের হয়ে যাওয়ার নীতিমালা থাকতে হবে।

এছাড়া খেলাপি ঋণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে বলে মত দেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাংকিং খাতের সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে এই খাত সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আলোচনার সারসংক্ষেপে বলা হয়, কার্যকর আইন প্রয়োগ, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ব্যাংক খাতের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News