টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কারাগারে পূজা চেরির বাবা

চলচ্চিত্র বিনিয়োগ, আর্থিক প্রতারণা এবং আলোচিত তারকা পরিবার—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে নতুন একটি মামলা। ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা বলে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।

অভিযোগের বিস্তারিত

মামলার এজাহার অনুযায়ী, একাধিক ধাপে প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান দাবি করেন, চলচ্চিত্র প্রযোজনার প্রস্তাব দিয়ে এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, ব্যাংক লেনদেন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চ মাসেও একটি ছোট অঙ্কের অর্থ পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূজা চেরির প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। তিনি বলেন, এটি তার পারিবারিক বিষয় হলেও ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর সমাধান হবে।

চলচ্চিত্র খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, চলচ্চিত্র খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট চুক্তি ও আর্থিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়েন।

তারা বলেন, বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্য

বাংলাদেশে বিনোদন শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই বিষয়টিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।

উপসংহার

চলচ্চিত্র বিনিয়োগকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ এখন তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News