এবার লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি দিল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্যপণ্য পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। 0
উত্তেজনার কেন্দ্র লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-নিয়ন্ত্রণকে তারা “সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ” হিসেবে দেখছে। এর জবাবে তেহরান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছে যে, প্রয়োজন হলে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 1
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী—দুইটিই বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল, গ্যাস ও শিল্পপণ্য এই পথ দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পৌঁছে থাকে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই রুটগুলোতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি হলে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। 3
বিকল্প হিসেবে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হলে পরিবহন সময় কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে পণ্যের সরবরাহে বিলম্বের পাশাপাশি শিপিং খরচ ও বীমা প্রিমিয়ামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 4
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা
বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি, শিল্প কাঁচামাল ও রপ্তানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল, এলএনজি, ভোজ্যতেল এবং শিল্পপণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সংকট তৈরি হলে মুদ্রাস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়বে, যা সাধারণ ভোক্তার জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 5
সামনের দিনগুলোতে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
Source: Based on reporting from Reuters, Al Jazeera, AP-linked international coverage and regional wire reports.
```6