ঢাকা বারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবে না জামায়াত প্যানেল: শিশির মনির

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) আসন্ন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ঘোষণা দিয়েছেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এই নির্বাচনে অংশ নেবে না। বুধবার ঢাকা বার ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। ঢাকা বার ইতোমধ্যে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ করেছে। 0

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে অভিযোগ

শিশির মনির অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনকে একতরফাভাবে সাজানো হয়েছে। তার দাবি, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কমিশনে দুই পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি প্যানেলের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ১১ সদস্যের কমিশনে একজন ছাড়া বাকি সদস্যদের ভারসাম্যপূর্ণভাবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা, কিন্তু সেখানে এক পক্ষের আধিপত্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানানো হয়েছে এবং বিকল্প নামও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই আপত্তির সন্তোষজনক সমাধান হয়নি।

“পাতানো খেলায় অংশ নেব না”

সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির বলেন, যদি আগে থেকেই নির্বাচন কমিশন ও ভোট গণনার পদ্ধতি প্রভাবিত করা হয়, তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। তার ভাষায়, “এই রকম পাতানো খেলায় আমরা অংশগ্রহণ করতে রাজি নই”

তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট গণনা নিশ্চিত করা হলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে প্রস্তুত। পরাজয় হলেও তা মেনে নিতে তাদের আপত্তি থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোটে ডিজিটাল গণনার দাবি

সবুজ প্যানেলের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ডিজিটাল ভোট গণনা ব্যবস্থা চালু করা। অতীতের কিছু নির্বাচনে ব্যালট বাক্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল ব্যালট বাক্সনির্ভর পদ্ধতিতে আস্থা রাখা কঠিন।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের সমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে। এতে নির্বাচনকে ঘিরে অনাস্থা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার সংখ্যা

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। 2

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বরাবরই দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলা বারে তিন প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নজিরও দেখা গেছে, যেখানে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিচ্ছেন। 3

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা বারের নির্বাচন ঘিরে এই বিরোধ জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও প্রতিফলিত করছে। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত না হলে আইনজীবী সমাজে বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।

Source: Based on reporting from Amar Desh, Dhaka Bar Association election notice, and verified legal affairs reporting

```4
Next News Previous News