জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার: চিফ হুইপ

সংসদকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সংস্কার জোরদার

জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদকে শুধু আইন প্রণয়নের জায়গা নয়, বরং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সংস্কার, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জবাবদিহিতা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কার্যকারিতা নিশ্চিতের ওপর জোর

চিফ হুইপ বলেন, সংসদকে প্রাণবন্ত করার আগে সেটিকে কার্যকর করা জরুরি। তিনি জানান, চলমান অধিবেশনের শুরুতেই ১৩৩টি বিল নিষ্পত্তি হয়েছে, যা সংসদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম এখন শুধু সংসদ সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংসদ সচিবালয়, বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি এবং প্রশাসনিক কাঠামো সমন্বিতভাবে কাজ করায় সামগ্রিক কার্যকারিতা বেড়েছে।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির দাবি

অতীতের সংসদ নিয়ে সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, আগে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা অনুপস্থিত ছিল। তার দাবি, বর্তমান সংসদ একটি ভিন্ন ধারার গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, যেখানে বিতর্ক, মতবিনিময় এবং সমালোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিরোধীদলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে এখন বিরোধীদলকে আগের তুলনায় বেশি সময় ও স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নতুন সদস্য ও নৈতিকতার প্রশ্ন

বর্তমান সংসদের একটি বড় অংশ নতুন সদস্যদের নিয়ে গঠিত হওয়ায় শুরুতে কিছুটা অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা গেলেও তা স্বাভাবিক বলে মনে করেন চিফ হুইপ। সময়ের সঙ্গে তারা আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, সংসদের ভেতরে কিছু নৈতিক সিদ্ধান্তেও ঐক্যমত তৈরি হয়েছে। যেমন—সরকারি প্লট গ্রহণ না করা বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার মতো বিষয়গুলো সংসদের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতি ও কৃষিতে উদ্যোগ

চিফ হুইপ বলেন, সরকার অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ভর্তুকি, জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড, সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষি খাতে সফলতা পেতে হলে সময়মতো মানসম্মত সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ খাতে অনিয়ম দূর করতে বিতরণ ব্যবস্থায় সংস্কার আনার কথাও জানান তিনি।

সংসদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা

চিফ হুইপের মতে, সংসদকে “জনগণের পার্লামেন্ট” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য। বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলোকে সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে, যা নিয়ে বিশেষ কমিটিতে আলোচনা চলছে।

সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংসদের কার্যকারিতা বাড়াতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর বিরোধী ভূমিকা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে।

Source: Based on reporting from বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Next News Previous News