জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে বাধা হয় এমন সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোনো শর্ত যদি জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের কল্যাণই হবে নীতিনির্ধারণের প্রধান ভিত্তি।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় অংশ নেন তিনি। ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অবস্থান

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি আগের সরকারের সময় গ্রহণ করা হয়েছিল এবং সেটি কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হবে। পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে করা চুক্তিতে অনেক শর্ত থাকে, যার কিছু শর্ত নতুন সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতা ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘জনস্বার্থই অগ্রাধিকার’

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দাতা সংস্থার শর্ত পূরণ করতে গিয়ে জনগণের কল্যাণকে উপেক্ষা করা হবে না। তার মতে, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থনীতির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যার মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আইএমএফের অবস্থান

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কারণে আইএমএফ ঋণ কর্মসূচিতে কোনো প্রভাব পড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই দুই বিষয়ের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

বরং এই কর্মসূচি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থনৈতিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ঋণ কর্মসূচি একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শর্তগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। ফলে সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উপসংহার

আইএমএফের শর্ত ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অর্থমন্ত্রী। সামনে নতুন কোনো ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণ কতটা অগ্রাধিকার পায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News