জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০ দিনের তেল ছাড়ছে জাপান

মধ্যপ্রাচ্য জ্বালানি সংকট, হরমুজ প্রণালি সরবরাহ বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। দেশটি ১ মে থেকে জাতীয় মজুত থেকে প্রায় ২০ দিনের সমপরিমাণ অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে তেল সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় দেশটি বিকল্প উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।

কত তেল ছাড়ছে জাপান?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন কিলোলিটার তেল বাজারে ছাড়া হবে, যা দেশের প্রায় ২০ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এই তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৪০ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৩.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাপান স্বল্পমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে চায়।

হরমুজ প্রণালির সংকট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে এই রুটে বিঘ্ন ঘটে, যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক বাজারে।

জাপানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় ঝুঁকি, কারণ তাদের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

বিকল্প উৎসের দিকে নজর

জাপান সরকার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা জোরদার করেছে। আশা করা হচ্ছে, মে মাসের মধ্যে মোট আমদানির অর্ধেকের বেশি বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল রাখা যাবে এবং মজুত তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।

আইনি কাঠামোর অধীনে সিদ্ধান্ত

এই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশটির পেট্রোলিয়াম স্টকপাইলিং আইনের আওতায়। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত তখনই নেওয়া হয়, যখন সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন বা মূল্য অস্থিরতার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বার্তা

বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। জাপানের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাজারে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থার ওপর।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস ও কৌশলগত মজুত বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

উপসংহার

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জাপানের তেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এটি স্বল্পমেয়াদে চাপ কমাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর।

Source: Based on reporting from Anadolu Agency via আমার দেশ

Next News Previous News