তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী

তেলের দাম বাড়াতে আইএমএফের চাপ নেই: অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো চাপ বা সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি জানান, মূলত সরকারি তহবিলের ওপর বাড়তি চাপ কমাতেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকারের অবস্থান

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্তে দেশের নীতিনির্ধারণ করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক সুরক্ষা খাত—বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মতো উদ্যোগ—নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ থাকলেও জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো ঋণ গ্রহণ করা হবে না।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

অন্যদিকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে হয়েছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, জ্বালানির আমদানি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় খরচ বেড়েছে এবং সেই চাপ সামাল দিতে আংশিক মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নতুন মূল্য কাঠামো

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানির দাম।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বেশি পড়ছে, বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মূল্য বাড়ানোর পরও ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি; বরং আংশিক ভর্তুকি এখনও অব্যাহত রয়েছে।

জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপসংহার

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও এটি যে অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় নেই। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই প্রভাব সামাল দিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।

Source: Based on reporting from যুগান্তর

Next News Previous News