নানাবাড়ির পুকুরে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

নানাবাড়ির পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, সিংড়ায় শোকের ছায়া

সিংড়া নাটোর পুকুরে ডুবে মৃত্যু ঘটনায় দুই শিশুর প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার একটি গ্রামে নানাবাড়ির পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড় আদিমপুর গ্রামে। নিহতরা হলেন ফাহিম হোসেন (১৩) ও তামিম হোসেন (১২)। তারা প্রবাসী আব্দুল মমিনের সন্তান এবং মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে বসবাস করছিল।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দুই ভাই বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যায়। সেখানে খেলাধুলা করতে গিয়ে তাদের শরীরে কাদামাটি লেগে যায়। পরে দুপুরের দিকে তারা আবার বাইরে যায় কাদামাটি ধুয়ে আসার জন্য।

এ সময় নানাবাড়ির কাছেই নতুন খনন করা একটি পুকুরের ডোবায় পড়ে তারা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা কিছুক্ষণ পর তাদের খুঁজতে শুরু করেন, কিন্তু কোথাও না পেয়ে আশপাশে অনুসন্ধান চালানো হয়।

পরবর্তীতে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

নিহতদের মধ্যে ফাহিম হোসেন স্থানীয় বিয়াস বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার ছোট ভাই তামিম হোসেন নুরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।

তাদের বাবা মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকায় মা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তারা নানার বাড়িতে থাকত। পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠা দুই সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “দুই শিশু পুকুরে পড়ে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে শিশুদের একা জলাশয়ের কাছে যেতে না দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

গ্রামীণ বাস্তবতা ও ঝুঁকি

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিশুদের জন্য ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের দাবি, নতুন খনন করা পুকুরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং শিশুদের চলাচলে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

সমাপনী

সব মিলিয়ে, সিংড়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। পরিবারের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা পুরো এলাকাকে শোকাহত করে তুলেছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Jugantor

Next News Previous News