তৃতীয় মাত্রার জিল্লুরের স্ত্রী পেলেন বিএনপির মনোনয়ন

বিএনপি মনোনয়ন ও সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে দলটির সর্বশেষ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট এক পরিচিত ব্যক্তির স্ত্রী। টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক ও বিশ্লেষক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হক জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জনের একটি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করেছে বিএনপি। এতে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নতুন মুখেরও অন্তর্ভুক্তি রয়েছে, যা দলটির কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফাহমিদা হকের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

ফাহমিদা হক বর্তমানে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তার স্বামী জিল্লুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন এবং দেশের রাজনৈতিক টকশো অঙ্গনে পরিচিত মুখ।

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় পারিবারিক শিকড় থাকলেও ফাহমিদা হক ঢাকায় বড় হয়েছেন। তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে আলোচনা থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি তার অন্যতম বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তালিকায় নতুন ও পুরোনোদের সমন্বয়

বিএনপির প্রকাশিত তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন ১০ জন। পাশাপাশি ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তারের মনোনয়ন পাওয়া বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটি তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করে। প্রার্থীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পারিবারিক প্রভাব ও সমালোচনা

এবারের তালিকায় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন নেতার স্ত্রী ও সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়াকে কেউ কেউ দলীয় প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার দলীয় মহল বলছে—যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হয়েছে।

এদিকে তালিকায় থাকা সুবর্ণা সিকদারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের একটি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তার সম্মতি ছাড়াই ওই কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই মনোনয়ন তালিকা দলটির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী কৌশলের অংশ। নারী নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দলটি ভোটারদের কাছে ভিন্ন বার্তা দিতে চাইছে।

বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নির্বাচন ভবিষ্যৎ সংসদের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, এসব আসনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নীতি নির্ধারণ ও নারী সংক্রান্ত ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বিএনপির সর্বশেষ মনোনয়ন তালিকা রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ফাহমিদা হকের মতো নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি যেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তেমনি কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত দলটির নির্বাচনী ফলাফল ও রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News