মোদিবিরোধী লেখালেখির কারণে আমাকে গুম করা হয়

ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য বাংলাদেশ—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আলোচিত এক মামলার শুনানিতে গুম ও নির্যাতনের শিকার দাবি করা মাশরুর আনোয়ার চৌধুরী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনামূলক লেখালেখির জেরে তাকে গুম করা হয়েছিল। বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের জেরার সময় তিনি এ দাবি করেন।

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। তাদের আইনজীবীরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষী মাশরুরকে জেরা করেন।

জেরায় গুমের অভিযোগ

জেরার একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মোদিবিরোধী লেখালেখির কারণে তাকে আটক করা হয়নি। জবাবে মাশরুর আনোয়ার এ বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, তার গুম হওয়ার পেছনে ওই লেখালেখিই প্রধান কারণ ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন সরকারপ্রধান দায়ী। তবে এ বিষয়ে আদালতে এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য আসেনি এবং বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চ্যারিটি কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

জেরার সময় তার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মাশরুর জানান, তিনি বিভিন্ন চ্যারিটি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে একটি মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেন।

আইনজীবীদের এক প্রশ্নে তাকে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ করা হলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন এবং নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অবস্থান

আরেক প্রশ্নের জবাবে মাশরুর বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। যদিও তার পরিবারের একজন সদস্য সরকারের একটি দায়িত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইনি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য ও জেরা প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়।

এই ধরনের সংবেদনশীল মামলায় প্রত্যেক পক্ষের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী বা নির্দোষ বলা যায় না।

উপসংহার

সব মিলিয়ে মাশরুর আনোয়ারের সাক্ষ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে গুম, নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গ। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোই এ মামলার গতি নির্ধারণ করবে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News