খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমার ভাতিজিকে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঢামেকে অসুস্থ প্রসূতি ও নবজাতককে দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা
ঢামেক হাসপাতাল চিকিৎসা কেন্দ্র করে এক গুরুতর অসুস্থ প্রসূতি ও তার নবজাতককে দেখতে হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার রাতে তিনি সরেজমিনে রোগীর অবস্থা পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জানা গেছে, বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর সীমা (৩২) নামে ওই নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে তার নবজাতক শিশুটির অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি
ঢাকায় আনার পর সীমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং পরে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রোগীর চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে রোগীর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এখনও আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।”
নবজাতকের অবস্থাও সংকটাপন্ন
অন্যদিকে নবজাতক শিশুটিকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির ওজন মাত্র ১ দশমিক ৭ কেজি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। ফলে তাকে বিশেষ পরিচর্যার আওতায় রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং অন্যান্য রোগীদের অবস্থার খোঁজখবরও নেন।
স্বাস্থ্যসেবার প্রেক্ষাপট
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসব-পরবর্তী জটিলতা বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
তাই উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জরুরি ক্ষেত্রে দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাপনী
সব মিলিয়ে, অসুস্থ প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরছে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে।
Source: Based on reporting from Jugantor
