স্ক্রিনশট ফাঁসের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) স্ক্রিনশট ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল এলাকায় এ সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটকে ঘিরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এতে এক ছাত্রদলকর্মীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে।

কীভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ

জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজন ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি ছাত্রদলের একটি পক্ষের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি আবাসিক হল শহীদ আবরার ফাহাদ হলের ছাত্রদল নেতার অনুসারীরা তাকে সমর্থন করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক গ্রুপ সুজন ইসলামকে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে অপর গ্রুপ বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্ক্রিনশট ফাঁস ও অভিযোগ

একাধিক সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীর ইনবক্সে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পরই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

তবে অভিযুক্ত সুজন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাবের নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে টার্গেট করা হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত

সুজন ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলার কথা বলেন।

ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য বা স্ক্রিনশট অনেক সময় দ্রুত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তা যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচারিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন কনটেন্ট ও গুজবের প্রভাব সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপসংহার

হাবিপ্রবির এই ঘটনা আবারও দেখাল, যাচাইবিহীন তথ্য কীভাবে দ্রুত বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News