সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এমপিদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

উপজেলা পর্যায়ে অফিস সুবিধা দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক এমপিকেই ব্যক্তিগত বা ভাড়ার গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

দাবির পেছনের যুক্তি

হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তি তুলে ধরে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো সুবিধা নেই। ফলে নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত এবং জনসংযোগ কার্যক্রম চালাতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

তিনি মনে করেন, একটি সরকারি যানবাহন থাকলে এমপিরা সহজে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সরকারের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

এই দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, বর্তমান সরকার অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে সংযত নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই এমপিদের জন্য বিলাসবহুল সুবিধা সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ির সুবিধা বাতিলের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কমানোসহ বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিষয়টি একেবারে নাকচ না করে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে কোনো সমাধান বের করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, তরুণ সংসদ সদস্যের এমন দাবির ক্ষেত্রে সরাসরি নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে আরও ইতিবাচক বার্তা যেত।

তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে সংসদে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সামনে আসে। তার বক্তব্যে সংসদে কিছু সময়ের জন্য হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া জটিল হয়ে ওঠে।

বর্তমানে সরকার ব্যয়সংকোচন নীতি অনুসরণ করায় নতুন সুবিধা সংযোজনের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। ফলে এমপিদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

উপসংহার

সব মিলিয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর যুক্তি, অন্যদিকে ব্যয়সংকোচনের বাস্তবতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News