এলপি গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত দাম কমানোর দাবি এমপি আখতারের

এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি তোলেন।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রায় চাপ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসা—সবখানেই এর প্রভাব পড়ছে বলে সংসদে তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।

দাম বৃদ্ধির কারণ নিয়ে প্রশ্ন

আখতার হোসেন বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট—দামের ওপর প্রভাব ফেললেও দেশের ভেতরে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থির করে তুলছে, আর প্রশাসনের নজরদারিতে ঘাটতি থাকায় সমস্যা আরও বাড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পূর্বে দাম স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে হঠাৎ করে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

জনজীবনে প্রভাব

এলপিজির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গৃহস্থালির ব্যয়ে। শহরাঞ্চলে গ্যাস সংযোগ না থাকা অনেক পরিবার রান্নার জন্য সম্পূর্ণভাবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। ফলে মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া ছোট রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতেও খরচ বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

সমাধানের প্রস্তাব

সংসদ সদস্য আখতার হোসেন আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এলপিজিসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি, যাতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে।

তার মতে, বাজারে কঠোর নজরদারি, মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বাংলাদেশে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে শহর ও শহরতলিতে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সরবরাহের কারণে বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে এর মূল্য স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংকট কমানো সম্ভব।

উপসংহার

সব মিলিয়ে সংসদে এলপিজির দাম কমানোর দাবি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যাকে সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং বাজারে কত দ্রুত স্বস্তি ফিরে আসে।

Source: Based on reporting from যুগান্তর

Next News Previous News