হাতকড়া পরা আ.লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন কর্মীরা
ফরিদপুর হামলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে পুলিশের হেফাজত থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় গ্রেপ্তারকৃত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কবির খানকে মুন্সিরচর বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং একপর্যায়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের পরপরই হামলা
চরভদ্রাসন থানার কর্মকর্তারা জানান, ভোরের দিকে দুর্গম পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে কবির খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নিয়ে আসার সময় মুন্সিরচর এলাকায় তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।
হামলার সময় লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয় এবং পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় ওই নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত
এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম, এসআই কাজী রিপন, এসআই মোজাম্মেল হক বিশ্বাস, এএসআই সোহেল গাজী এবং কনস্টেবল উজ্জল হোসেন রয়েছেন। তাদের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, কবির খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ভূমি দখল, হামলা, বিস্ফোরক ব্যবহার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে পদ্মা নদীর চর এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা জননিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, যা অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।
উপসংহার
সব মিলিয়ে ফরিদপুরের এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
