জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জবি উপাচার্যের শ্রদ্ধা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে তিনি ইতিহাসের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া
বুধবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপাচার্য সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং পরে দুই নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তার উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের ফলেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। তাই তার অবদান স্মরণ করা এবং যথাযথ সম্মান জানানো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠাতার প্রতি এই শ্রদ্ধা জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বার্তা
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন উপাচার্যের এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা বহন করে। এটি একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসকে সম্মান জানানোর ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ পরিচালনায় মূল্যবোধের গুরুত্বকেও তুলে ধরে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ও রাজনীতির প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সেই ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল। তাই এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষাঙ্গনে ঐতিহাসিক সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শেষ কথা
নবনিযুক্ত উপাচার্যের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বার্তা উঠে এসেছে।
Source: Based on reporting from Kaler Kantho
