গণতন্ত্রের মা বেঁচে থাকবেন মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকে ‘গণতন্ত্রের মা’ আমাদের মাঝে নেই, তবে তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি সংসদে উপস্থিত থাকতেন, আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। তিনি যতবার নির্বাচন করেছেন, সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন, যা দেশের মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ। যদিও তিনি আজ শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, তবে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের মনে তিনি জীবিত আছেন। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তিনি আজীবন অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
বিরোধী দলের স্মৃতিচারণ
জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তিনি দেশের স্বার্থে সবসময় অটল ও আপসহীন ছিলেন। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী-এর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানেই নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই এবং একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
অন্য অংশগ্রহণকারীরা
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।
শোক প্রস্তাব ও নীরবতা
আলোচনা শেষে সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
Source: আমার দেশ অনলাইন, ১২ মার্চ ২০২৬
