যুবককে ছরিকাঘাত করলেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় থানায় অভিযোগ করার জেরে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলাকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। আহত যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে দত্তপাড়া ইউনিয়নের পুনিয়ানগর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরমান হোসেন (৩১) ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, স্থানীয় এক বহিষ্কৃত রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

পূর্ববিরোধ থেকে সহিংসতায় রূপ

জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে রাস্তার পাশে গাছের ডাল রাখা নিয়ে আরমান ও অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি, পরে তা মারধরের ঘটনায় গড়ায়। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এরপর আরমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত পক্ষ দ্বিতীয় দফায় তাকে মারধর করে এবং সর্বশেষ শুক্রবার সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল আরমানের পথরোধ করে। তারা প্রথমে ইট দিয়ে আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান পায়ে আঘাত করে, এতে পায়ের রগ কেটে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ

অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ২০২৪ সালে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া

চন্দ্রগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। থানায় অভিযোগ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে, যা দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক মধ্যস্থতা জোরদার না হলে এ ধরনের সহিংসতা বাড়তে পারে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News