বিকল্প ট্রেন ধরতে ৫ কিলোমিটার পথ হাঁটছেন যাত্রীরা
ঈদযাত্রার সময়ে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন বগুড়ার সান্তাহার জংশনের কাছে লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে অনেককে সান্তাহার থেকে ৫ কিলোমিটার হেঁটে ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনে গিয়ে বিকল্প ট্রেন ধরতে হচ্ছে।
দূর্ঘটনার প্রাথমিক পরিস্থিতি
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী এলাকায় ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার পর সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
যাত্রীদের কষ্টের অভিজ্ঞতা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা ও রাজশাহী থেকে আসা যাত্রীরা সান্তাহার জংশনে নামছেন। অনেকে ভ্যান বা অটোরিকশায় যাচ্ছেন, কিন্তু অনেকেই পরিবার ও ভারী ব্যাগ নিয়ে রেললাইন ধরে ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনের দিকে হেঁটেছেন। সেখান থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার মাধ্যমে তারা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
এক যাত্রী জুয়েল বলেন, "আমরা ২৪ জন একসাথে আছি। আমাদের বলা হয়েছে ছাতিয়ানগ্রামে যেতে। কিন্তু জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যা বলা হয়েছিল তার দ্বিগুণ।"
অন্য এক যাত্রী মোছা তানিয়া বলেন, "ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেসে চড়েছিলাম। সান্তাহারে নেমে শুনলাম অন্য ট্রেনের দুর্ঘটনা হয়েছে। কষ্ট করে অটো ধরেই ছাতিয়ানগ্রাম এসেছি।"
রেলওয়ের বিকল্প ব্যবস্থা
আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, ঈদযাত্রার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা সান্তাহার জংশনে নেমে ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠবেন। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন ছাতিয়ানগ্রামে স্টপেজ দেবে এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীরা ওঠবেন। এছাড়া বরেন্দ্র এক্সপ্রেসে আসা যাত্রীরাও ওই ট্রেনে উঠতে পারবেন।
নিষ্কর্ষ ও প্রভাব
দূর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এই ঘটনা দেশের রেলপথ নিরাপত্তার দিক পুনরায় বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post and local correspondents
