হাদির হত্যাকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যা বলছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

হাদির হত্যাকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যা বলছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

আমার দেশ অনলাইন, ৯ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি-এর হত্যাকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, ভারতের রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও হেফাজত

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে কোনো ভারতীয় নথিপত্র ছিল না। তাদের আদালতে তোলার পর ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানান, এই দুইজনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত রাজ্য পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে।

গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ও কনসুলার এক্সেস

ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বনগাঁ, ভারতের সীমান্ত এলাকার কাছ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভারত সরকারের কাছে কনসুলার এক্সেস চেয়েছে।

কনসুলার এক্সেসের মাধ্যমে বিদেশের কোনো কূটনীতিক ভারতে আটক বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামলার সংবেদনশীলতা এবং গুরুতর প্রকৃতির কারণে দুই দেশের প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানিয়েছে, হাদির হত্যার পর মাসুদ ও আলমগীর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে। এরপর তারা ভারতের বিভিন্ন স্থান দিয়ে চলাফেরা করেন এবং অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় লুকিয়ে থাকেন।

তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের সঙ্গে কেউ আরও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে কি না, তা-ও পুলিশ তদন্ত করছে।

হাদির হত্যাকাণ্ড

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে একটি প্রচারাভিযানের সময় হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Next News Previous News