সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার নিন্দা জামায়াতের
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আহত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বলপ্রয়োগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
যা ঘটেছে বলে দাবি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি সম্প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত তিনজন সাংবাদিক আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন তোফায়েল (বাংলা নিউজ), আকাশ (এনপিবি নিউজ) এবং কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচার করছিলেন।
জামায়াতের অবস্থান
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকতা জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। এ ধরনের ঘটনায় বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সরকারের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি আহত সাংবাদিকদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গণমাধ্যমের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ
বাংলাদেশে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রায়ই মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় ঝুঁকির মুখে পড়েন—বিশেষ করে রাজনৈতিক সমাবেশ, আইনশৃঙ্খলা অভিযান বা সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতিতে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বরাবরই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনআস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সমাপনী কথা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Amar Desh
