ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার
ঢাকা — কাতার সরকার ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি “বিপর্যয়ের মুখে” পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে শান্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমাতে আহ্বান করা হয়েছে। 0
এলাকার নিরাপত্তা ও পরিণতি
কাতার জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সেনা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষমূলক ঘটনা এবং পারস্পরিক প্রতিশোধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের খামenei ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চস্তরের তৎপরতা উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে, যা কেবল নিপীড়িত দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ধুঁকিয়ে দিচ্ছে। 1
কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান বিপজ্জনক উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।” এতে মোকাবেলা ও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক পথ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 2
উপসাগরীয় সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষত কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বেশ কিছু বছর ধরেই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে এসেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে তা বিপুল অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিরূপ প্রভাব ফেলবে। 3
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে কেবল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে যাতে সামরিক উত্তেজনা কাটিয়ে ওঠা যায়।
আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
কাতার ছাড়াও গালফ সমন্বয় পরিষদের (GCC) অন্যান্য দেশগুলোও এই সংঘাতের কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সওদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একইভাবে সতর্ক করেছে যে, সংঘাত “আঞ্চলিক স্থিরতা ও নিরাপত্তাকে ভাঙতে পারে।” তারা সকল পক্ষকে সহিংসতা বন্ধে এবং কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। 4
বাংলাদেশের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে বহু প্রবাসী বাংলাদেশী রাখে এবং রেমিট্যান্স-ভিত্তিক অর্থনীতির জন্য এই অঞ্চলের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাতারের ও অন্যান্য গালফ দেশগুলোর নিরাপত্তায় আশঙ্কা থাকলে তা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ সৃষ্টি করে। 5
উপসংহার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে “বিপর্যয়ের সম্ভাবনা” হিসেবে দেখছে এবং কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে দ্রুত ফিরবার জন্য অনুরোধ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ অপরিহার্য।
