ফুলবাড়ী সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে বিএসএফের সড়ক নির্মাণ

ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫০ গজের ভেতরে সড়ক নির্মাণ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তেজনা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এই নির্মাণকাজে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় দেশের বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্ত এলাকায়, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর নিকটে বিএসএফ একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত সড়কটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের মাত্র ৫০ থেকে ৭০ গজের মধ্যে অবস্থিত, যা সীমান্ত আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ১৫০ গজের সীমার ভেতরে পড়ে।

নোম্যান্সল্যান্ডে সড়ক নির্মাণ ঘিরে বিরোধ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর সাব-পিলার ১ থেকে সাব-পিলার ১১ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি বিদ্যমান সড়ক রয়েছে। এই সড়কটি ভারতের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকা হয়ে কুর্শাহাট থেকে দিনহাটা যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়। তবে পুরো সড়কটি বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছাকাছি নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগেও বিএসএফ ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী বিজিবির আপত্তির মুখে তারা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সর্বশেষ ঘটনায় বিএসএফ আবারও ওই সড়কের পাশে নতুন করে সড়ক নির্মাণ শুরু করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।

পতাকা বৈঠকে আলোচনায় নির্মাণ বন্ধের বিষয়

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খলিশাকোঠাল সীমান্তে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট বিওপির কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়নকুঠি ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর দীপক কুমার।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জোরালো দাবি জানানো হয়। আলোচনার পর বিএসএফ ঘটনাস্থল থেকে সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় উদ্বেগ

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিক চলাচল ও কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং কূটনৈতিক ও নিয়মতান্ত্রিক পথেই বিষয়টির সমাধান চান।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement