সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন আর নেই
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ আমলা এম হাফিজ উদ্দিন খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রশাসন ও রাজনীতির অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উত্তরা এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মামাতো ভাই লিয়াকত আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের অবসান
এম হাফিজ উদ্দিন খান বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরিতে থাকাকালে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৯৬ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ওই সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়সহ মোট সাতটিরও বেশি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সেই সময়কালে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নির্বাচনকালীন ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সহকর্মীদের স্মৃতিতে একজন নীরব কর্মী
সাবেক আমলা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন প্রচারের আড়ালে থেকে কাজ করা একজন দায়িত্বশীল প্রশাসক। তিনি সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ করতেন না, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিতেন।
তাঁর সঙ্গে কাজ করা একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকটকালে ধৈর্য ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই ছিল তাঁর কাজের ধরন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও অবসরকাল
প্রায় ১৫ বছর আগে সরকারি দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর এম হাফিজ উদ্দিন খান রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নিজ বাসভবনে বসবাস করছিলেন। অবসরজীবনে তিনি মূলত পারিবারিক জীবনেই সময় কাটাতেন এবং খুব সীমিত পরিসরে সামাজিক যোগাযোগ রাখতেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, কানাডা প্রবাসী দুই কন্যা এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোকের মাতম চলছে।
জাতীয় পর্যায়ে শোকের প্রতিক্রিয়া
এম হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও নীরব কর্মীর অবদান দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি যে পেশাদারিত্ব ও সততার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from সময়ের কণ্ঠস্বর
