উনি বড় মুফতি, বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন: গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ বা কাউকে মুসলমান-কাফের হিসেবে চিহ্নিত করা অনৈতিক ও বিভ্রান্তিকর। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত মহল্লায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা
বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদেশে অবস্থান করে কাউকে ধর্মীয় মানদণ্ডে বিচার করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মন্তব্য করেন, “যিনি আল্লাহ, রাসুল ও আখেরাতে বিশ্বাস করেন, তাকে কাফের বলা ইসলামসম্মত নয়। এটি বড় ধরনের অপরাধ।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি রাজনীতিকদের বক্তব্যে সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
নির্বাচনকে ‘নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম’ হিসেবে ব্যাখ্যা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের পথ এখন ব্যালটকেন্দ্রিক। তাঁর ভাষায়, অস্ত্র নয়, বরং ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতা ও আইন পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রাম হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জনগণকে ভোটের মাধ্যমে মত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য
১৯৭১ সালের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সে সময়ের বাস্তবতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিল। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক মতভেদ হতে পারে, তবে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে এবং দলের গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত রয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলটির অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন।
ঐক্য ও রাজনৈতিক সচেতনতার আহ্বান
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তার মতে, ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্তই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবে। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা
সমাবেশে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লাসহ স্থানীয় ও থানা পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীরাও সভায় অংশ নেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খুলনা অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণায় আদর্শিক বক্তব্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখছে। তবে ভোটের মাঠে এসব বক্তব্যের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।
Source: Based on reporting from local news sources.
