নির্বাচনে টুপি, ঘোমটা দিলে কি ভোট বেশি পাওয়া যায়?
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের পোশাক ও ধর্মের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়েছে। উদারপন্থি থেকে বামপন্থি ও স্বতন্ত্র—সব পক্ষের প্রার্থীই নির্বাচনি জনসংযোগে টুপি, পাঞ্জাবি বা ঘোমটা ব্যবহার করছেন।
ধর্মভিত্তিক স্লোগান, পোস্টার বা মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা আরও বেড়েছে, যা ভোটারদের অজ্ঞতার উপর নির্ভর করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ, ভঙ্গ করলে জরিমানা ও শাস্তি রয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ধর্মীয় পোশাকের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী জনসংযোগের সময় বৃদ্ধ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্যই এমন পোশাক পরেছেন।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই এটিকে কেবল লোক দেখানো ও নির্বাচনী কৌশল মনে করেন। তবে কিছু ভোটার মনে করেন, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য ভাবমূর্তি প্রদর্শনের জন্য প্রার্থীরা এই পোশাক ব্যবহার করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা মন্তব্য করেন, এটি প্রার্থীকে ক্লিন ইমেজ দেখানোর একটি উপায়, বিশেষ করে যারা দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িত নয় তাদের জন্য।
ইতিহাসেও দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মের ব্যবহার দীর্ঘ। ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তান ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচনে ধর্মকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর সংবিধানের ইসলামিকরণ ও পরবর্তী নির্বাচনে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।
“আমরা ধর্মকে কখনও ব্যবহার করি নাই, করবো না”—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ধর্ম ব্যবহার এবং প্রার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ছে। ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগ উঠলেও দলটি তা অস্বীকার করেছে।
