‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপক্ষে যারা, তারা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছে
ঠাকুরগাঁও গণভোট, হ্যাঁ ভোট, সংবিধান সংস্কার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপক্ষে প্রচার চালাচ্ছে, তারা মূলত শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গণভোট প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভা’ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটকে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন উপদেষ্টা
ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করতে জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়, তারাই সাধারণত ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তন চাইলে জনগণকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা এখন সরাসরি মানুষের হাতেই রয়েছে। এই সংস্কারের সুযোগ বারবার আসে না।” উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের জন্য সংস্কারবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের প্রেক্ষাপট
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রচলিত আইন কাঠামোর মধ্যে সরাসরি সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত। সে কারণেই জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে সংসদে গিয়ে কেউ ইচ্ছামতো সেই সংস্কার থেকে সরে আসতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘোষিত এই গণভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা চলছে। একদিকে সরকার সংস্কারকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষগুলো বিভিন্ন আশঙ্কা ও প্রশ্ন তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উপদেষ্টাদের প্রকাশ্য বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হক সুমন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গণভোটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, মতবিনিময়ের মাধ্যমে জনগণ গণভোটের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে। তাঁদের মতে, সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে পারে।
Source: Based on reporting from Dhaka-Post
