ঢাকার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে ডিএমপি ভাগের চিন্তা সরকারের

রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কাঠামো পুনর্বিন্যাসের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রাথমিক আলোচনায় ডিএমপিকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ অথবা একাধিক প্রশাসনিক অংশে ভাগ করার প্রস্তাব উঠে এসেছে। তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগর বিস্তারের বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতেই এই কাঠামোগত পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে।

কাজের গতি বাড়াতে বিভাজনের আলোচনা

বৈঠক শেষে দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ডিএমপি যদি দুটি বা একাধিক অংশে বিভক্ত করা হয়, তাহলে পুলিশের কাজের গতি বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

তার ভাষায়, ঢাকা আগের মতো ছোট শহর নেই। শহরের পরিধি ও জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। নতুন এক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এমন বিশাল একটি মহানগরে একটি একক মেট্রোপলিটন পুলিশ কাঠামোর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

বর্ধিত ঢাকা, বাড়তি চ্যালেঞ্জ

প্রেস সচিব আরও বলেন, বৈঠকে ঢাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কীভাবে আরও সহজ, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যানজট, চুরি, ছিনতাই, মাদক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ডিএমপির আওতাধীন এলাকা অনেক বড় হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বা নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা আলাদাভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা থেকেই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

উত্তর-দক্ষিণ না কি একাধিক অংশ

ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম জানান, ডিএমপিকে কেবল ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ—এই দুটি অংশে ভাগ করা হবে, নাকি আরও একাধিক অংশে বিভক্ত করা হবে, তা নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অতীতের কিছু প্রশাসনিক মডেলের কথাও আলোচনায় আসে।

তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় গুলশান ও মিরপুর আলাদা পৌরসভা হিসেবে পরিচালিত হতো। সেই ধরনের মডেল অনুসরণ করলে মহানগর এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি ও সেবাদান আরও কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

তবে সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, ডিএমপি ভাগ করা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে। সব দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগর বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমপি পুনর্গঠন করা হলে তা ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে জনবল, বাজেট, অবকাঠামো ও সমন্বয়ের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের এই ভাবনাকে একটি সম্ভাব্য সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা ঢাকার নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement