সাংবাদিক নামে কিছু কলঙ্ক আছে, যাদেরকে মানুষ বলা ঠিক হবে না

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা সাংবাদিকতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। একটি নির্বাচনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিক পরিচয়ের কিছু ব্যক্তিকে ‘কলঙ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কুষ্টিয়া পৌর এলাকার একটি ওয়ার্ডে জামায়াতের নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই প্রার্থী।

বক্তব্যে কী বলেছেন আমির হামজা

অনুষ্ঠানে আমির হামজা বলেন, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। তার দাবি, অতীতের কিছু ভিডিও কনটেন্ট নতুনভাবে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে বিরোধী অবস্থানে থাকা একটি পক্ষ জড়িত, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরোনো বিষয় সামনে এনে বিতর্ক তৈরি করছে।

ভিডিও ছড়ানো নিয়ে অভিযোগ

আমির হামজা জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালের কিছু কাটছাঁট করা ভিডিও কারা ছড়িয়েছে—তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান করেছে বলে তিনি অবগত। তার দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের নাম কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম বা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পূর্বের মন্তব্য ও ক্ষমা প্রসঙ্গ

আরাফাত রহমান কোকোর নাম জড়িয়ে দেওয়া একটি পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, তিনি ওই বক্তব্যের জন্য আগেই ভুল স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় সেই ভুলের কথা স্বীকার করেন।

এ সময় তিনি অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কের উদাহরণ টেনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, কিছু ঘটনায় নীরবতা ও কিছু ঘটনায় সক্রিয়তা কেন—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য স্বাভাবিক হলেও পেশাগত গোষ্ঠী নিয়ে সাধারণীকরণ বা তীব্র ভাষা ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও রাজনীতিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠন বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।

Source: Based on reporting from JagoNews24

Next Post Previous Post

Advertisement