ভাঙনের মুখে জামায়াতে ইসলামী জোট
এদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় বেশি আসন দাবি করায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি। একই কারণে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও জামায়াতের বনিবনা পুরোপুরি হয়নি।
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত এই দুই দল ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে—এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
যৌথ ঘোষণা ব্যর্থ
গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ১১ দলের পক্ষ থেকে যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো।
জামায়াতের ছাড় ও বার্গেনিং সুবিধা
প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে নিজ দলের প্রার্থী দেয়নি। এতে করে সংশ্লিষ্ট দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জোট সম্প্রসারণের পর মনোমালিন্য
দীর্ঘদিন ধরে আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছিল জামায়াত। জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর থেকেই ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বাড়তে থাকে।
নতুন তিন দলের সঙ্গে ঐক্য হওয়ার পর ইসলামি দলগুলোর গুরুত্ব জোটে কমতে থাকে। এতে আসন কম পাওয়ার আশঙ্কায় জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহও কমে যায়। কারণ এনসিপি যুক্ত হওয়ায় জামায়াতের ওপর চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা তারা হারিয়েছে বলে মনে করছে।
মনোনয়নপত্রে জটিলতা
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরদিন দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জোটের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সময় স্বল্পতার কারণে এমনটি হয়েছে। আলোচনা করে ৩০০ আসন চূড়ান্ত করা হবে। পরে জামায়াত এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেয় এবং এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে তা মেনে নেয়।
আট ইসলামি দলের জোট
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আট ইসলামি দলের জোটে রয়েছে—চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
