আমার পক্ষে গণজোয়ার অনেকের ভয়ের কারণ: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, তার পক্ষে তৈরি হওয়া জনসমর্থনের ঢেউ প্রতিপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলো নির্বাচনের আগে যেকোনো ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও অভিযোগ
সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের মাঠে এখনো পেশিশক্তি ও অর্থের প্রভাব স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। তার মতে, বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো জয় নিশ্চিত করতে সব ধরনের উপায় অবলম্বন করে থাকে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটকেন্দ্রিক অনিয়ম ও চাপের আশঙ্কা তাকে ভাবিয়ে তুলছে। এ কারণে নেতাকর্মীদের তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
কর্মীদের প্রতি সতর্কবার্তা
রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়মিত সতর্ক করছেন যেন কোনো ধরনের উসকানি বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে না জড়ান। তিনি রূপক অর্থে বলেন, মাঠে যেমন হাঁসের অভাব নেই, তেমনি দিনের শেষে সব হাঁস যেন নিরাপদে খোয়াড়ে ফেরে—সেটি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের দিন ও তার আগের সময়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সংগঠনের শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ
নির্বাচনী পরিবেশ সমান নয় বলে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তাকে একের পর এক জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে। তার দাবি, সাধারণ উঠান বৈঠক আয়োজনের কারণে এখন পর্যন্ত তাকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বড় মঞ্চে সভা করে প্রকাশ্যে ভোট চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি প্রচারণা শুরুর আগেই বিভিন্ন সভা ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলীয় রাজনীতি ও প্রার্থীতা প্রসঙ্গ
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একসময় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন এবং এই আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে দলটি এ আসনে তাদের জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান নেয়।
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব
এই প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখের স্বতন্ত্র প্রার্থীতা ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই আসনের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
