আমরাই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, তারা দেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি এবং অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ইতিহাস স্মরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী পথসভায় মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সেই সময় কারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল এবং কারা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল—এই প্রশ্ন আজও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ বাইরে থেকে এসে বাংলাদেশের হয়ে যুদ্ধ করেনি; দেশের মানুষই নিজেদের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। তার মতে, যারা সেই সময় দেশ ছেড়ে যায়নি, তারাই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
প্রতীক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বক্তব্য
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাইছে, যাদের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা শক্তিগুলোর পার্থক্য বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জনগণের।
তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা নির্বাচনি প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসে।
নারী, কৃষক ও স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পনা
নির্বাচনি কর্মসূচিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে সরাসরি সহায়তা পাবে পরিবারগুলো।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও বিপণনসংক্রান্ত সুবিধা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
আসন্ন নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।
নির্বাচিত হলে সংসদে জনগণের স্বার্থে কথা বলার পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সামনে রেখে দেওয়া এই বক্তব্য নির্বাচনি রাজনীতিতে আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
