ভানুয়াতুর ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত আগ্রহ কেন?
পোর্ট ভিলা — দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছে একটি বিশেষ কারণে—এর ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ বা বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কর্মসূচি। অল্প সময়, তুলনামূলক কম খরচ এবং ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুবিধার কারণে এই কর্মসূচি ধনী ব্যক্তি ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি কী
ভানুয়াতুর ‘ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রাম (DSP)’ নামের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ সরকারি তহবিলে বিনিয়োগ করলে বিদেশিরা দেশটির নাগরিকত্ব পেতে পারেন। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়, যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অত্যন্ত দ্রুত।
কেন এত আকর্ষণীয়
এই পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ। ভানুয়াতুর নাগরিকরা ইউরোপের শেঙ্গেন অঞ্চলসহ শতাধিক দেশে সহজে যাতায়াত করতে পারেন। পাশাপাশি, এখানে ব্যক্তিগত আয়কর বা সম্পদ কর নেই, যা ধনীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।
কারা বেশি আগ্রহী
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কড়াকড়ি ভিসানীতি বা উচ্চ করের দেশগুলোর ধনী নাগরিকরা এই কর্মসূচিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের একটি বিকল্প নাগরিকত্বের নিরাপত্তা দিচ্ছে ভানুয়াতু।
সমালোচনা ও উদ্বেগ
তবে এই কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কিছু দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে মানি লন্ডারিং বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অতীতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া যথেষ্ট কঠোর নয়—এমন অভিযোগ ওঠার পর ভানুয়াতু সরকার নিয়ম আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে।
ভানুয়াতুর অর্থনীতিতে প্রভাব
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি ভানুয়াতুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাজেট ঘাটতি পূরণে এই আয় বড় ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যৎ কী বলছে
বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কর্মসূচি নিয়ে নজরদারি বাড়ছে। ফলে ভানুয়াতুকে আন্তর্জাতিক চাপ ও স্বচ্ছতার দাবি মেনে চলতে হবে। তবুও, দ্রুত নাগরিকত্ব ও বৈশ্বিক চলাচলের সুবিধার কারণে গোল্ডেন পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ আপাতত কমছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
