ছাত্রসংসদ নির্বাচন বন্ধের পাঁয়তারা ছাত্রসমাজ মানবে না: সাদিক কায়েম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি ছাত্র সংগঠন পরিকল্পিতভাবে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের পাঁয়তারা করছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম এসব কথা বলেন। তার মন্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থী মহলে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন বন্ধের অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি

ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, শাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একটি ছাত্র সংগঠন তাদের ‘মাদার অর্গানাইজেশনের’ এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, পেশিশক্তির দাপট দেখিয়ে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার যেকোনো উদ্যোগ ছাত্রসমাজ প্রতিহত করবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা। তার ভাষায়, জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার দমন করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

আইনি জটিলতা ও রিট আবেদন

এদিকে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটকারী মমিনুর রশিদ শুভ শাকসু নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আদালতে আবেদন দাখিলের বিষয়টি নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রচারের সময় বাড়াল নির্বাচন কমিশন

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারের সময়সীমা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সব প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সময় বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। অনেকের মতে, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষার্থী সমাজের প্রত্যাশা

শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা আইনি কৌশল ব্যবহার করে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা হলে তা শিক্ষাঙ্গনের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

সব মিলিয়ে, শাকসু নির্বাচনকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও আইনি জটিলতার মধ্যেও শিক্ষার্থী সমাজ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে আছে। আগামী ২০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement