সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া, কোনো প্ল্যান কাজে দেবে না: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠুতা না থাকলে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং দুই জোটের প্রার্থীদের জন্য একই আচরণবিধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নাহিদ ইসলাম এসব মন্তব্য করেন। তিনি একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশে বৈষম্য ও দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সুবিধা প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে পরিকল্পনা অকর্মদক্ষ হবে
নাহিদ ইসলাম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। অন্য কোনো প্ল্যান কাজে দেবে না।” তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠুতায় কমিশনের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। উভয় জোটের জন্য একইরকম আচরণবিধি থাকা দরকার এবং কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা কিংবা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে।
‘কার্ড’ সুবিধা: বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির প্রশ্ন
নাহিদ ইসলাম বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড সুবিধা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো?”
তিনি প্রশ্ন করেন, কার্ড নিতে গেলে জনগণকে কি ঘুষ দিতে হবে, নাকি চাঁদাবাজি রয়ে যাবে—যা দুর্নীতি নির্মূল না হলে সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন: দ্বিচারিতার অভিযোগ
নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে কার্ড দেওয়া কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণ খেলাপিদের সংসদে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, যদি সত্যিই জনগণের কল্যাণে কাজ করা হয়, তাহলে ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া উচিত নয়। “যারা ঋণ পরিশোধ করেনি, তারা সংসদে গেলে আবারও ঋণ নেবে, টাকা লুট করবে, পাচার করবে”—এমন ব্যক্তিদের ক্ষমতায় যেতে দেওয়া দেশের জন্য বিপজ্জনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট নয়, নিরাপদ জীবন ও কর্মসংস্থান দরকার
নাহিদ ইসলাম বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায় না, তারা চায় নিরাপদ জীবন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। তিনি অভিযোগ করেন, যারা ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলছে তারা বাস্তবে বস্তি উচ্ছেদ ও উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে।
তার বক্তব্যে বলা হয়, “বস্তিতে আগুন লাগানো, উচ্ছেদ”—এসব ঘটনা ঘটিয়ে মানুষকে বস্তি থেকে বের করে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
ভোটের মালিক জনগণ: প্রতারণা চিনতে পারবে
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জান্নাতের মালিক আল্লাহ, আর ভোটের মালিক জনগণ।” তিনি যোগ করেন, নাগরিকরা বুঝে গেছে—কারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করছে, কারা জনগণকে ঠকাচ্ছে, কারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে এসব বক্তব্যের প্রভাব পড়বে কিনা তা নির্ভর করছে নির্বাচন পরিবেশ ও নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের ওপর। নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি রাজনীতির উত্তাপ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার দাবি আরও জোরালো করেছে।
Source: Based on reporting from Desh TV Online
